বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করিয়া ৯৫০ (নয়শত পঞ্চাশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ০২ জন গ্রেফতার বাংলা নব-বর্ষের শুভেচ্ছা জানান তরুন রাজনৈতিক ব্যাক্তি আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী তরুনদের সামনে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম কে তুলে ধরার আহবান জানান -চট্টগ্রামের ডিসি আওয়ামী লীগের কারাবন্দী একজন সাবেক রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী)। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমার পদত্যাগের পাঁচ দিন পর জুরাছড়িতে উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। “আলোচিত ঘটনা ওয়ান-ইলেভেন চক্রান্তের আদ্যোপান্ত ” “মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় কারাগারে সাংবাদিক” জোবায়েদ হত্যাকাণ্ড সামনে দাঁড়িয়ে দেখে বর্ষা, মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে বাসায় চলে যায় । জামায়াতের ওপর এনসিপির ক্ষোভ যে কারনে: আগের রাতে হয় দীর্ঘ বৈঠক

“আলোচিত ঘটনা ওয়ান-ইলেভেন চক্রান্তের আদ্যোপান্ত ”

আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ।

—————————————–

আমেরিকার টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাবহুল সেই নাইন-ইলেভেনের (৯/১১) কথা মনে আছে?  সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় মার্কিনিদের। তেমনই এক , দেশের রাজনীতির ইতিহাসে বাঁক বদলের বহুল আলোচিত-সমালোচিত সেই ওয়ান-ইলেভেনের আধ্যোপান্ত জানবো-


জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের এই দিনে (১১ জানুয়ারি) দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

২০০৭ সালের এদিন বিকেলে জরুরি অবস্থা জারির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়।

কী ঘটেছিল সেদিন?

দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। নানা গুজব ও গুঞ্জনে সার্বিক পরিস্থিতি ছিল থমথমে। এ অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যোগ দেন।

সেই বৈঠকে কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার ডগলাস ফসকেট, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইনোওয়ে মাসাইয়েকি, ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত ড. স্টিফান ফ্রোইন ও জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রেনাটা ডেজালিয়েন উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত বৈঠক শেষে অনেকটা হতাশ হয়ে বেরিয়ে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তখন আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে সেখান থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা সরাসরি চলে যান দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসায়।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বের হওয়ার আধাঘণ্টা পর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের বাসায় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। তবে বৈঠক শেষে তারাও মুখ খোলেননি।

সোজা নেতাকর্মীরা চলে যান গুলশানের হাওয়া ভবনে। সেখানে তারা বৈঠক করেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে।

এর আগে, দুপুর পৌনে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে তার বারিধারার বাসায় বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী।

কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান দুটি দলের বৈঠকের আগে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দুপুর বারোটায় বৈঠক করেন আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে। এতে কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকের পরপরই রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বঙ্গভবনে তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে, বিকেল সাড়ে চারটায় উপদেষ্টা পরিষদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিল করা হয়। দু-একজন ছাড়া উপদেষ্টাদের প্রায় সবাই বঙ্গভবনে গিয়ে বৈঠক বাতিলের খবরে ফিরে আসেন।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিমানবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাব, বিডিআরসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে সেনা সদরে বৈঠক করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ।

পরে রাত সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনে পুনরায় উপদেষ্টাদের ডাকা হয়। সে সময় উপদেষ্টাদের সবাইকে পদত্যাগের অনুরোধ জানানো হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে উপদেষ্টারাও পদত্যাগ করেন।

পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে। তিনি নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।

এসব নাটকীয় ঘটনা ও টানটান উত্তেজনা-উদ্বেগের মধ্যেই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন এবং বিপদের সম্মুখীন হওয়ায় রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের ১৪১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।’

এরপর নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাত সাড়ে ১১টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।

ভাষণে তিনি বলেন, একইসঙ্গে দুটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথকে সুগম করতে আমি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এর আগে, ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান উপদেষ্টা করে তার নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, জরুরি অবস্থা জারির পর রাজনৈতিক দলগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। শুরু হয় রাজনৈতিক নেতাদের ধরপাকড়। দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই গ্রেপ্তার হন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই তখন গ্রেপ্তার হন।

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকেও গ্রেপ্তার করে বিশেষ কারাগারে নেওয়া হয়। সে সময় দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে। মাইনাস-টু ফর্মুলা তখন ছিল একটি বহুল আলোচিত বিষয়।

এর প্রেক্ষিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমে আসে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এক পর্যায়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সেই সঙ্গে ঘরোয়া রাজনীতিরও অনুমতি দেয়।

এরপর ধীরে ধীরে শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারাও মুক্তি পান। প্রায় দুই বছর অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করে।

রক্তাক্ত ভয়াল ২৮ অক্টোবর  ২০০৬ :বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধ –


রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানবতাবিরোধী অপরাধ।  এই দিনে এ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলংকজনক অধ্যায় রচিত হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে লগি-বৈঠা দিয়ে তরতাজা তরুণদের পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে নারকীয় উল্লাস চালানো হয়েছিল। সবচেয়ে বড় মানবতা বিরোধী অপরাধ এদিনই সংগঠিত হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সেদিন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। লগি, বৈঠা, লাঠি, পিস্তল ও বোমা হামলা চালিয়ে যেভাবে মানুষ খুন করা হয়েছে তা মনে হলে আজও শিউরে ওঠে সভ্য সমাজের মানুষ। সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ মেরে লাশের উপর নৃত্য উল্লাস করার মতো ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই নয়, গোটা বিশ্বের বিবেকবান মানুষের হৃদয় নাড়া দিয়েছে। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব থেকে শুরু করে সারাবিশ্বে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়।

ওয়ান-ইলেভেনের সেই খলনায়করা কে কোথায় —


বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা। দুই নেত্রীসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়সহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কুশীলবদের এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে হয়নি। ফলে প্রায় সবাই আছেন বহাল তবিয়তেই। নির্বিঘ্নে নিজেদের মতো করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন। বেশির ভাগই আছেন বিদেশে। এর মধ্যে প্রধান কুশীলব ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন উ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে সেখানেই আছেন। সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারীও থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। থাইল্যান্ডে চিকিত্সারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। সে সময়  প্রভাবশালীর ভূমিকায় থাকা সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী টানা ছয় বছর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন শেষে এখন ঢাকায় অবসর যাপনের পাশাপাশি পাঁচ তারকা মানের রেস্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা করছেন। ওয়ান-ইলেভেনে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা হিসেবে দোর্দণ্ড প্রতাপে থাকা মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন দুবাইয়ে চাকরি করেছেন কয়েক বছর। তিনি ও ডিজিএফআইয়ের অপর ক্ষমতাধর মেজর জেনারেল (অব.) সাঈদ জোয়ার্দার দুবাই-কানাডা যাওয়া আসার মধ্যে আছেন বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে। চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। জানা যায়, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন দেশ ছেড়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে। অবশ্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন আগে থেকেই। এই দফায় দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে বাড়ি কেনেন মেরিল্যান্ড স্টেটের পটোম্যাকে। সেখানে তার দুটি বাড়ির একটিতে থাকেন সস্ত্রীক ও অপরটিতে থাকে তার কন্যার পরিবার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বিষয়ে ভিসিটিং স্কলার হিসেবে গবেষণা ও শিক্ষকতা করেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী  পদমর্যাদার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শিক্ষার্থীদের ‘উন্নয়নশীল দেশের গণতন্ত্রের বিকাশ’ সম্পর্কে শিক্ষা দেন। সেই সঙ্গে সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়েও শিক্ষার্থীদের পড়ান প্রায় বিশ বছর বিশ্বব্যাংক ও পাঁচ বছর পিকেএসএফে দায়িত্ব পালন করা ফখরুদ্দীন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি বেশ কয়েকজন বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন এবং এখনো করছেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ সেনাপ্রধান হিসেবে অবসর নেন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের মাঝামাঝি। সে বছরেরই ১৪ জুন তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথমে ফ্লোরিডায় ছোট ভাই ও ছেলের কাছে থাকতেন। পরে তার ক্যান্সার ধরা পড়লে চিকিত্সার জন্য নিউইয়র্কের কুইন্সে থাকা শুরু করেন। এর মধ্যেই তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব হয় বা গ্রিনকার্ড পান। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিশেষ সুবিধায় নিউইয়র্কের হাসপাতালে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিত্সা নেন। পরে দার স্পাইনাল কর্ডে ৫টি স্থানে ক্ষত হওয়ায় বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনও করা হয়। কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও ২০১৫ সালে ফ্লোরিডায় একটাি রবীন্দ্র সম্মেলনের মঞ্চে সরব উপস্থিতির মাধ্যমে সামনে আসেন জেনারেল মইন। এর মধ্যে ‘শান্তি পথে’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন ওয়ান-ইলেভেন সংশ্লিষ্ট কিছু কথা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত হওয়া অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি ৮১ বছর বয়সে থাইল্যান্ডে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। শেষ সময়ে তিনি বয়সের ভারে মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেছিলেন। কাটিয়েছেন গুলশানের বাসভবনে। রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানেই যোগ দেননি।

ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেশের দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করার অভিযানের জন্য গঠন করা ‘গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র প্রধান সমন্বয়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুুরী ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চার দফায় মোট ছয় বছর অস্ট্রেলিয়ায় দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সালে ঢাকায় ফিরে আসেন। এখন ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় একটি ফাইভ স্টার মানের রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুুরী। দুই মেয়ে বিদেশে থাকায় সস্ত্রীক রেস্টুরেন্ট ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের আরেক আলোচিত ও সমালোচিত সামরিক কর্মকর্তা (চাকরিচ্যুত) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারী আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ে ব্রিগেডিয়ার বারী ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে সামরিক অ্যাটাচির চাকরি নিয়ে দেশত্যাগ করেছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিলেও তিনি ফেরেননি। পরে তার স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসীর স্ট্যাটাস পান। মাঝে ডমিনাস পিজা ও ওষুধ কোম্পানির ডেলিভ্যারি ম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও তথ্য আছে।

ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন ২০০৯ সালের ১৭ মে সব আর্থিক সুবিধাসহ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। পরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয়ে দেশত্যাগ করেন। সর্বশেষ দুবাইয়ে অবস্থান করে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করছেন বলে জানা যায়। সেখানেই আছেন ডিজিএফআইয়ের সে সময়ের অপর ক্ষমতাধর মেজর জেনারেল (অব.) সাঈদ জোয়ার্দারও। তারা কানাডায় যাওয়া-আসা করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ওয়ান-ইলেভেনের আগে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধূরী পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর জাতীয় সংসদে চরম সমালোচিত হয়ে ২০০৯ সালের ২ এপ্রিল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ডিওএইচএসের বাসাতেই থাকছেন। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ব্যায়াম করেন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে। বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি তাকে দুদকের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কৈফিয়ত দিতে ডাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরজুড়ে উপদেষ্টা থাকা মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন ছিলেন সে সময়ের গুরুতর অপরাধ দমন সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটিরও প্রধান। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনা করছেন।

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে অত্যধিক সক্রিয় ভূমিকায় থাকা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগি করে দৈনিক ইত্তেফাক ছেড়ে দিয়ে নিজের আইন পেশায় ফেরেন। উচ্চ আদালতের বিভিন্ন ইস্যুতে সরব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে বিভিন্ন টকশোতে উপস্থিত হতে দেখা যায়। উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান নিজের এনজিও পিপিআরসির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার পরামর্শক হিসেবেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যতটা সরব ছিলেন এখন তেমন সরব না হলেও আইন পেশায় নিয়মিত।

বিদেশি কূটনীতিক : ওয়ান-ইলেভেনের আগে-পরে ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা বেশ কয়েকজন কূটনীতিকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাক গলানোর অভিযোগ ওঠে। সে সময়ের মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেসিয়া এ বিউটেনিস ২০০৭ সালের জুন মাসে ঢাকার দায়িত্ব শেষ করে ফিরে যান। পরে তিনি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানব পাচার দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। বিউটেনিসের পরপরই ঢাকায় আসা জেমস এফ মরিয়ার্টিও কূটনীতি থেকে অবসরে গেছেন। কিন্তু ২০১৫ সালে গার্মেন্ট ব্যবসার সক্ষমতা বাড়াতে একটি ত্রিপক্ষীয় জোটের ঢাকার প্রধান সমন্বয় হিসেবে এসে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন মরিয়ার্টি। তত্কালীন সময়ে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনোয়ার চৌধুরী বর্তমানে পেরুতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন। মাঝে তিনি ব্রিটিশ সরকারের ফরেন ও কমনওয়েলথ অফিসের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনোয়ার চৌধুরীর পরে দায়িত্ব পালন করা স্টিভেন ইভান্সও দায়িত্ব পালন শেষে লন্ডনে পররাষ্ট্র দফতরে কাজ করছেন। সে সময় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী হিসেবে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা রেনাটা ডিজালিয়েন মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধির দায়িত্বে গিয়েও বিতর্কিত হয়েছেন। সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থানের বাইরে গিয়ে মিয়ানমার সরকারকেই সমর্থন করছিলেন, এমন অভিযোগে রেনাটাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে মিয়ানমার থেকে।

সারাংশঃ 


১১ জানুয়ারি ২০০৭। বিকেলে বঙ্গভবনে মঞ্চস্থ হলো রুদ্ধশ্বাস নাটক ।

◑ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অবসরের বয়স ৬৫ ছিল কিন্তু ২০০৬ সালের শেষে নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে সেটা বাড়িয়ে ৬৭ বছর করে ।

◑ ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যাওয়ার সময় তারেক রহমান এয়ারপোর্টে বলেন- আমি আর কখনো এদেশের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হবোনা।

◑ ২০০৬ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে চার দলীয় জোটের সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া বলেন- তারা বাংলাদেশের খায়-দায়, আর সহযোগিতা করে অন্য দেশের। এরা রাজনীতিবিদ নয় এরা জাতীয় বেঈমান।

◑ ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শপথ নেন ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

◑ পরদিন মঈন ইউ আহমেদ জোর করে ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ কে সরিয়ে নিজেই ক্ষমতা দখলে নেয়।

◑ নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন ২৭ নভেম্বর, ২০০৬
এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করেন ২৯ জানুয়ারি ২০০৭ এ।

◑ ৩ জানুয়ারি ২০০৭, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল আওয়ামিলীগ।

◑ ১১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ – দায়িত্বশীল সকলের অনুরোধে নাগরিক শক্তি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল,
পরবর্তীতে ৩ ই মে ২০০৭ সালেই সাড়া না পাওয়ায় প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের নিকট চিঠির মাধ্যজে দলটি বিলুপ্তি ঘোষনা করেন ড.ইউনুস।

◑ ১১ জুন ২০০৮, শেখ হাসিনা জনসম্মুখে বের হয়েছিল, কথিত মঈন ইউ আহমেদের নাটকীয় কারাগার থেকে,
_ ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে নির্যাতিত অবস্থায় ছাড়েন,
_ অই একই দিন তারেক রহমান মঈন ইউ আহমেদের অনুসারী ভারতীয় দোসর সেনা অফিসাররা নৃশংসভাবে নির্যাতন করে আধ-মরা করে কারাগার থেকে বের করেছিল,

◑ ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে মুমূর্ষু অবস্থায় লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা এয়ারপোর্টে মঈন ইউ আহমেদের পোষা বাহিনী ঝামেলায় লাগিয়ে দিয়েছিল, এসে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে ব্লাকমেইন ও হ্যারাসমেন্ট করতেছিল। তখন তারক রহমানের প্রতিনিধি ডাঃ নূর ইসলাম – যদি পুরো বাংলাদেশ লিখে দিতে হয়, লিখে দেন। এগুলার কোন মূল্য নাই।
এরপরে স্ট্যাম্পের কথা বললে, বলে এগুলা ভূয়া।

◑ সেনাবাহিনীর প্রতারণা ও ভারতীয়দের হস্তক্ষেপ সক্রিয় ছিল।

কারণ, ২০০৮ সালে বেঈমান সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ ভারতে গিয়ে, ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সাথে চক্রান্ত করে নির্বাচনের নাটকের স্ক্রিপ্ট নিয়ে আসেন। এসেই আওয়ামিলীগের কাছে তথা ভারতীয় হুকুমে দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করতে মাঠে নেমেছিল।

◑ বিএনপি-জামায়াত জোট ভাঙ্গার শত চেষ্টা করেছিল মঈন ইউ আহমেদ ও ভারতীয় সন্ত্রাসীরা তবে তা ব্যর্থ হয়েছিল।

◑ ৩০ অক্টোবর ২০০৮ বেগম জিয়া বলেছিলেন- এই নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট, এদের অধীনে নির্বাচন হতে পারেনা।

◑ মাইনাস টু ফর্মূলা ছিল মঈন ইউ আহমেদ অনুসারী সেনা অফিসারদের যা ব্যর্থ হয়েই ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করার মিশনে নেমেছিল মঈন ইউ আহমেদ।
হাসিনাকে বাদ দিয়ে খালেদাকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল মঈন ইউ আহমেদ ও ভারতীয় সন্ত্রাসীরা।

◑ ৫ নভেম্বর ২০০৮ সালে বেগম জিয়া ৪ দলীয় জোটের এক আলোচনায় বলেছিলেন – এখন নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিকে ৫০ টি আসন ও জামায়াতকে ৩টি আসন দেওয়া হবে, সুতারাং নির্বাচনে ওই।মূহুর্তে অনশ গ্রহন করা ঠিক হবেনা।

◑ তখন তারেক রহমান লন্ডনে, বিএনপির মধ্যকার দলীয় কোন্দল, সিনিয়র অনেক নেতার বিদ্রোহ করার আশংকা দলের সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছিল।

◑ তখনকার সব কিছু বিবেচনা করেই ৪ দলীয় জোট নির্বাচন চেয়েছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে ।

◑ কিন্তু নির্বাচন কমিশন পূর্ব ঘোষিত তারিখ থেকে ১০ দিন পিছিয়ে ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ সালে নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা করেছিল।

◑ বিএনপি তখন দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও স্লোগানের আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছিল। আন্দোলনে সফল হলে নির্বাচন পিছিয়ে সাংগঠনিক ও জোটের সমন্ধয় বৃদ্বি এবং জনগনের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারত।

◑ নির্বাচনের ফলাফল – বিএনপি -৩০, জামায়াত- ২টি
আওয়ামিলীগ -২৩০, জাতীয় পার্টি : ২৭
উল্লেখযোগ্য, বিএনপির ৩০ টি ও জামায়াতের ৩ টি আসনের নাটক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সিনিয়র জামায়াতের নেতারা ভবিষ্যতেবাণী করেছিল।

◑ ভোট চুরি শুরু করেছিল শেখ মুজিব, ২০০৮ সালে ডাকাতি তথা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং টার্ন শুরু করেছিল হাসিনার প্রেতাত্বা কুলাঙ্গার সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ ও ভারত।

◑ বিএনপি-জোট দেশের ক্ষতি চাইলে ২০০৬ সালে আওয়ামিলীগের মত ঘোঁ হারা বুঝে জ্বালা-পোড়াও,দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছিল সেভাবে ২০০৮ সালে পরিস্থিতি কর তারা মানে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচন বাঁনচাল করতে পারতো।

◑ সংসদীয় আসন সীমানা মনগড়া নির্ধারণ করেছিল আওয়ামিলীগ তথা ভারতীয় নির্বাচন কমিশন।

◑ বিএনপির ব্যর্থতা হলো : বিচার বিভাগে স্বেচ্ছাচারিতা ও পুলিশি তদন্তে দূর্বলতার ব্যবস্থা না নেয়া।

◑ ৬ জানুয়ারি, ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদের কাছে শপথ নিয়েছিল ভারতীয় বি টিম আওয়ামিলীগ।

◑ যে তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য মানুষ পুড়াইছে, দেশের সম্পদ জালাইছে সে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছিল আওয়ামিলীগ।

২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ নির্বাচনের সকল অনিয়মের জন্য দায়ী সাবেক মীরজাফর কুলাঙ্গার মঈন ইউ আহমেদ ও ১/১১ এর কুশিলবরা।

২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সকল খুন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দন্ডিত আসামীও তারা ।

তথ্যসূত্রঃ 


পর্যালোচনায়ঃ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ।

এক এগারো (বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮)

লেখক: মহিউদ্দিন আহমদ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

প্রযুক্তি সহায়তায় রায়তাহোস্ট